Pichu Taan | Rudra Sankar Banerjee


এগোলাম আমি সাগরের ঐপারে -
দেখি নি , তাতে কি ? তাই বলে
কি আমি এগোবনা তার দিকে!
পেরোতে হবে অনেক  বাধা,
অগোচরে রয়েছে হরেক  বিপদ | 
যাব আমি যত গভীরে-
রুধ্হ হবে এ গতিপথ | 
তাই বলে কি এগোবনা তার দিকে.......

এগিয়েছি আমি নিজ সেচ্ছায়ে -
নই সমাজের ক্রীতদাস |
তাই সমাজ যদি দাড়ায়ে 
অসীম লোহিত  সরূপ -
ভাসাবো কি আমার সরল স্বপ্ন
এই নোংরা ঘোলাটে  জলে ?
তোমরা রুধ্হ করবে গতিপথ-
তাই বলে কি এগোবনা তার দিকে.......

টুকটুকে হাতে  ধরেছিলাম আমি 
মায়ের বাড়ানো আঙুল| 
না ধরলে কি কোনদিন 
 পারতাম নিজ পায়ে দাড়াতে?
 ভোলায়ে  আমায়ে  এ অকপট আওহান
পার্থিব যত জটিল পিছুটান !
হোক না রুধ্হ এই গতিপথ 
তাই বলে কি এগোবনা তার দিকে .......

Eke Beke | Rudra Sankar Banerjee


হালকা ছিল স্নিগ্ধ সমীরণে উরে যাওয়া খেয়াল ;
আটকাতে পারতনা, কত যে ভাবনা সেই চোখের পাশের দেওয়াল,
ধরতে চাইতাম নিজের ছায়াকে, ভাবতাম আমার-ই মতো কেউ,
চেষ্টা করে করে বিফল হতাম, উঠত মনে কতো ঢেউ


আকাশটা যেন মনে হত বিস্ত্রিত এক খেলার দেশ
-কতো অদ্ভুত, কতো বিচিত্র, ছিলোনা কোনো স্বপ্নের শেষ।
দুরের শেই তিলায় উথে ভাবতাম- একসাথে যেতে পারবো
মাকে বলতাম, “ চলো না নিয়ে, একবার আকাশেতে আমি চরবো”!


বাগানের ফুলের বিচিত্র রঙ কতো হাতছানি দিয়ে ডাকতো;
বিকালে পরন্ত রোদে ফেরিওয়ালা এসে হাঁকত-
এভাবেই কতো ভাবনাতে ভুলে থাকতো শিশুমন,
বুঝলাম না সেই অবুঝই ছিল জীবনের অমূল্য ধন


বিচিত্র ছেলে বেলার আগুনে আজ জ্বলে পুড়ে ছারকার,
ফেলে আশা সময় দেয় না সান্ত্বছা, চায় বিচিত্র কত হুঙ্কার।
বাগানে আজও ফুল ফুতেছে, তারা আজ ঠেলে আমায় তাঁদের দিকেঃ
এভাবেই বোধ হয় জীবনটা চলে কখনো সোজা কখনো বা একে বেঁকে।

Tomakei Valobasbo | Sabuj Halder 


রাতের কালো আঁধার যেন তোমার চুলের বাহার।
তোমার মুখের হাসি যেন শুভ্র চাঁদের পাহাড়।
তোমার গালের গোলাপি আভা ফুলের চেয়েও রঙিন।
আমার মনে তোমার বাসা প্রেমের অন্তগহিন।
তোমার ঠোঁটের মিষ্টতা আমার ঠোঁটে দাও।
আমার বুকের ভালোবাসা আপন করে নাও।
তোমার চোখের কাজল রঙে হারিয়ে যাই আমি।
তোমার মুখের হাসি,আমার প্রানের চেয়েও দামী।
অপেক্ষাতে আছি তোমার অপেক্ষাতেই থাকবো।
তোমায় মনে রেখেছি আমি তোমাকেই মনে রাখবো।
তোমার জীবনে এসেছি আমি, বারে বারে আসবো।
                    তোমায় ভালবেসেছি আমি, তোমাকেই ভালবাসবো।

Bol Ke Tui | Sabuj Halder


বল কে তুই ? কে তুই বল,
হিন্দু না মুসলমান ?
বারুদ মাখা হাত কেন তোর ?
রক্তে করিস স্নান!
বল কে তুই ? কে তুই বল,
হিন্দু না মুসলমান ?
আল্লাহ নাকি রামকে পুজিস ?
তোরাই শুধু ধর্ম বুঝিস!
লাশের মাঝে প্রাণকে খুঁজিস!
এই তোদের জ্ঞান ?
বল কে তুই ? কে তুই বল,
হিন্দু না মুসলমান ?
মানুষ আর নেই কেন তুই ?
গাস হিংসার গান।
বল কে তুই ? কে তুই বল,
হিন্দু না মুসলমান ?
আল্লাহ নাকি রাম,
রক্তে ভেজা মাটি বল,
কাকে করবি দান ?
বল কে তুই ? কে তুই বল,
হিন্দু না মুসলমান।
মন্দির না মসজিদ চাই ?
মাটির উপর কি ঘর বানাই ?
মানুষ ছেড়ে তবে তোরা,
কাকে দিবি স্থান ?
বল কে তুই ? কে তুই বল,
হিন্দু না মুসলমান ?
কারেই বা তুই জীবন দিবি ?
কার বা নিবি প্রান ?
আল্লাহ কে আওয়াজ দিবি
না ডাকবি ভগবান ?
বল কে তুই ? কে তুই বল,
হিন্দু না মুসলমান ?
মানবতার ধর্ম ভুলে,
                                 বুকের মাঝে আগুন জ্বেলে
নিস যখন জান!
কি বা হবে জেনে তুই,
হিন্দু না মুসলমান !
মানুষ কেন হোসনা তোরা ?
বারুদ দিয়ে কর্ম ভরা!
রক্ত দিয়ে লিখিস তোরা
কোন ধর্মের গান ?
বল কে তুই ? কে তুই বল,
হিন্দু না মুসলমান ?
ভুলে সকল হিংসা দ্বেষ,
মুছিয়ে দিয়ে শত্রু বেশ ।
আয় চল গাই সবাই মিলে
এক সুরেতে গান।
ভারত মায়ের দুই সন্তান
মোরা হিন্দু মুসলমান!
আজ আমি বড়ই আনমনা,
আকাশের দিকে চেয়ে শুধুই তারা গোনা।
ঢেউ খেলে যখন নদীর জলে,
তোমায় তখন মনে পড়ে,
দাঁড়িয়ে তুমি আছ যেন আমার কল্পতরুর তলে।
চেয়ে থাকি ওই মেঘের কোলে
আশার আলো চোখে জ্বেলে,
তোমায় দেখতে পাব বলে।
যখন দেখি ওই মাঠের শেষে
সূর্য যেথা মর্তে মেশে।
গাছের দোলায় হাওয়ার রেশে,
তোমার ছোঁয়া যায় ভেসে।
কল্পনারীর কল্পনাতে
মন যে প্রেমের খেলায় মাতে।
তোমার প্রেমের নেশার ঘোরে
দাঁড়িয়ে আছি তোমার দোরে।
জোছনা হারা জীবন আমার,
শোনায় এই প্রেমের বানি।
কল্পনাতে আস তুমি
কল্পনা হয়ে আমার।
বাস্তবেতে কেন আসো না
খুলে দিয়ে কল্পদ্বার ?
ছিলাম, আছি, থাকব আমি
তোমার প্রেমের প্রতীক্ষাতে।
দেখি কবে আস তুমি
প্রেমের গোলাপ নিয়ে হাতে।




রামধনুর রঙের ছটায়
রাংবে চতুর্দিক।
সবার সাথে বন্ধু হব
এই কথাটি ঠিক।
নতুন নতুন গল্প হবে
নতুন নতুন ছন্দ।
সাহিত্যের এই নতুন বাসা
মোটেই নয় মন্দ।
সবার আশীষ নিয়ে শুরু
মোদের চলার পথ।
লেখার টানে ঘুরবে চাকা,
ছুটবে খুশির রথ।


জানো আমি কে ভাই ?
ঠিক বলেছ আমি তাই।
আমি ভারতবাসী, আমার উপনাম চাষি
আমি ক্ষেতে ক্ষেতে সোনার ফসল ফলাই।
ঘরে ঘরে খাদ্য আমিই পৌঁছাই।
নিজে অনাদরে অভুক্ত থেকে,
তোমাদের মুখে খাদ্য তুলি,
যাতে তোমরা আমাদের জন্য
বল বড় বড় বুলি।
আমি শুনি, আমি সবই শুনি।
তোমরা কত জ্ঞানী কত গুণী।
আমি অসহায় আমি দরিদ্র,
তোমরা শিক্ষিত, তোমরা ভদ্র।
তোমরা আমায় পড় বইয়ের পাতায়।
আমাদের কথা লেখ খাতায়।
আমাদের দেখ মহাজনের আড়তে ।
আমরা ছড়িয়ে আছি এই ভারতে।
তোমাদের প্রধান আমাদের দাতা
তাঁর শুল্ক কর যদিও আমাদের কাছে জাঁতা ।
তবুও আমরা হাঁসি মুখে পিষি ।
কারন আমরা উৎপাদক, আমরা চাষি।
আজ যদি আমরা অভিমান করি
তাহলে জগতের লোকেরা অভুক্ত থাকবে।
কত শিশু ঘরে ঘরে কাঁদবে।
তাই আমারা লাঙ্গল টানি।
আমরা আমাদের ভাগ্যও জানি।
দারিদ্রতায় ভরা!
যাকে ঘিরে রাখে ব্যাধি আর জ্বরা ।
তবুও বাঁচি অন্যের তরে।
তবে কতদিন ? আর কতদিন এভাবে টানব ?
কতদিন আমরা এই ব্যাবস্থাই মানব ?
যদি ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় ?
যদি আমরা কষ্ট সহিষ্ণুতা ভুলে যাই তবে ?
জানি,জানি এ ধরণী ধ্বংস হবে।
তাই মুখ বুজে থাকি।
তোমরা দেখ আমার অশ্রুসিক্ত আঁখি।
দাও আমাকেও বাঁচার অধিকার!
দাও দাও কর এই উপকার!
আর পারিনা, পারিনা আর সইতে!
কেউ চায় না আমাদের কথা শুনতে।
তোমরা শুনবে ?